রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :

জরুরী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে……..রাজশাহীর কথা  অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে।

ভাল নেই রাজশাহীর লেপ তোষক তৈরির কারিগরগণ

ভাল নেই রাজশাহীর লেপ তোষক তৈরির কারিগরগণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  শীতের চলে দুইমাস। পুরোদমে শীত আসতে এখনো কিছু সময় বাকি। কিন্তু শীতকে কেন্দ্র যেসব মানুষের কর্মসংস্থান হয় তারা পড়েছেন বিপাকে। শীত না পড়ার কারণে নেই তাদের কাজ। এক প্রকার অবসর সময় পার করছে শীত নির্ভর আয় করা মানুষ। মূলত প্রকৃতির নিয়মেই আশ্বিন মাস থেকে সারাদেশেই শীত শুরু হয়। কিন্তু এবার আশ্বিন গেলো, গেলো কার্তিক তবুও দেখা মিলছে না শীতের। আর এই শীতের অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন রাজশাহীর লেপের কারিগরগণ। আশা ছিল এবার শীতে করোনার ধকল সামলিয়ে তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। কিন্তু শীত না আশার কারণে সেই আশাতেও তাদের গুড়ে বালি। কারণ শীত না আশার কারণে বিক্রি হচ্ছে না লেপ। এতে কাজও নেই তাদের হাতে। প্রতিদিন কাজে এসে প্রায় ফাঁকা হাতেই ফিরতে হচ্ছে তাদের। সংসারে চলছে দুরাবস্থা।

কথা বলা হয় রাজশাহী মহানগরী লক্ষীপুর বনি বেড হাউজের লেপ তোষকের কারিগর সামাদ আলীর সাথে। তিনি বলেন, আমরা ভাল নেই। পুরো বছর কিভাবে গেলো তা নিজেই বুঝতে পারছি না। সংসারে অভাব অনটন। যে কাজ হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চালাতে পারছি না। তিনি বলেন, গত মার্চ মাস থেকে প্রায় চার মাস কাজ বন্ধ ছিল। পরে কাজ শুরু হলেও পরিমাণটা খুব কম। দৈনিক মুজুরী ভিত্তিকভাবে কাজ করি। যখন যেখানে ডাক পড়ে তখন সেখানে ছুটে যাই। এখন আর আগের মত কাজের ডাক পড়ে না। যদিও ডাক পড়ে দুই তিন ঘন্টা কাজ করে আর কাজ থাকে না। মহাজনদের বেচাবিক্রি হচ্ছে না। কারণ এই সময় কাজের পুরো মওসুম। কিন্তু শীত না পড়ার কারণে মওসুম কিনা বুঝতে পারছি না। চারদিক দেখে মনে হচ্ছে কাজ শুরু হতে আরো অনেক সময় বাকি। এই সময় চলবো কিভাবে সেটাও বুঝতে পারছি না।

সামাদ জানান, দুই ঘন্টায় একটি তুষক তৈরি করা যায়। এতে দেখা যায় মওসুম হলে দিনে চার থেকে পাঁচটি তোষক তৈরি করা যায়। আর এতে যা মুজুরী পাই তা দিয়ে স্বাচ্ছন্দে সংসার চলে যায়। কিন্তু এখন দিনে একটা দুটো কাজ হয় না। সারাদিন বসে থেকে একটি বা দুটি লেপ বা তোষক তৈরির অর্ডার পাই। আর দুটো তোষক তৈরি করে যে টাকা পাই তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তিনি বলেন গত ১৬ বছর থেকে কাজ করছি। কিন্তু এমন দুরাবস্থা হবে তা কখনো ভাবিনি।

মধ্য বয়সী কারিগর শরিফুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে তিন ছেলে মেয়ে। তারা পড়াশোনা করে। পড়াশোনার খরচ এখন লাগছে না। দৈনন্দিন যে টাকা খরচ হচ্ছে সেটাও বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সংসারে আয় কমে গেলেও বেড়েছে ব্যয়। চাল, ডাল, তরিতরকারী সব কিছুর দাম বেশি। কিন্তু দিনে যে টাকা সংসার চালাতে খরচ হচ্ছে তা আয় হচ্ছে না। শীতের মওসুম এলে কিছু টাকার মুখ দেখতে পাই। কিন্তু শীতের দুমাস চলে গেলেও কাজের চাপ বাড়েনি। কবে নাগাদ কাজের চাপ বাড়বে আর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবো তা বুঝতে পারছি না।

নগরীর রাণিবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর দোকানে চারজন করে কর্মচারি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতো। বেচাবিক্রিও ভার হতো। এতে কর্মচারিদের পাওনা দিনের দিন পরিশোধ করা হতো। কিন্তু করোনার কারণে ব্যবসা মন্দা হওয়ায় সবাইকে বাদ দেয়া হয়েছে। এখন কাজ থাকলে তাদের ডাকি, না থাকলে না।

তিনি বলেন ইতিমধ্যে লেপ তোষক তৈরির অনেক কারিগর এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দিয়েছে। কারণ লেট তোষক তৈরি করে যে আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব না। এ কারণে তারা পেশা বদল করেছে। তিনি জানান, এবার বেচাবিক্রি না থাকলেও সব কিছুর দাম বেশি। তাই যতটুকু অর্ডার হচ্ছে ততটুকু বেশি দামেই অর্ডার নিতে হচ্ছে। এবার একটি লেপ তৈরিতে খরচ পড়ছে ১২শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩৫শ’ টাকা পর্যন্ত। যা গত বছর ছিল ১২শ’ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে। একটি তোষক তৈরি করে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করলেও ১৮শ’ টাকার নিচে বিক্রি করা যাচ্ছে না। কিন্তু ক্রেতারা দাম শোনার পরই চমকে উঠছে। মাস হিসাবে কর্মচারি রাখতে না পেরে দিন হিসাবে রাখা হয়েছে। একটি লেপ তৈরি করার পর শ্রমিকের মজুরী দিয়ে বিক্রি করে তেমন লাব থাকছে না। তবে এ মাসের মধ্যে শীত পড়লে হয়তো বেচাবিক্রি কিছুটা বাড়বে। একই সাথে লেপ তৈরির কারিগররাও বাড়তি কিছু আয় করতে পারবে।

লেপ কিনতে আশা নগরীর বালিয়া পুকুর এলাকার সাজ্জাক হোসেন জানান, গত বছর একটি লেপ কিনেছিলাম ১৭৫০টাকা দিয়ে। ওই সমপরিমান তুলা ও কাপড় দিয়ে এবার লেপ তৈরিতে দোকানি চাচ্ছে ২৫শ’ টাকা। বাজারে তুলার দামও বেশি। ৩০ টাকার কমে ভাল কোনো তুল মিলছে না। আর ঝুট কাপড়ের নি¤œমানের তুলা বিক্রি হচ্ছে উচ্চ দামে। তিনি বলেন, মানুষের আয় কমে গেলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। এতে অতিপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন.......




© All rights reserved © 2020 Rajshahirkotha.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com