রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :

জরুরী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে……..রাজশাহীর কথা  অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে।

রাজশাহীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক

রাজশাহীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হিসাবে মাস্ক ব্যবহারে উপর জোর দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাস্ক ব্যবহারের উপর আইনও করেছে সরকার। এতে মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন মানুষ। কিন্তু মানুষ যে মাস্ক ব্যবহার করছেন তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে। মাস্কের মান নিয়ে রয়েছে আলোচনা সমালোচনা। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য সারাবিশ্বই আজ সজাগ। আর সারাবিশ্বে মাস্ক ব্যবসায় অমুল পরিবর্তন এসেছে। করোনা ভাইরাস আসার পর বৃদ্ধি পেয়েছে মাস্ক কোম্পানীরও। সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও মাস্কের ব্যবসা চলছে রমরমা। বর্তমান নগরীর এমন কোনো দোকান নেই যেখানে মাস্ক পাওয়া যায় না। করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য মানুষ যে মাস্ক ব্যবহার করছে তা কতটুকু সুরক্ষা দিচ্ছে তা নিযে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি মাসের মার্চ মাস থেকে সারা বাংলাদেশের ন্যায় রাজশাহীতেও প্রভাব বিস্তার করে করোনা ভাইরাস। এরপর থেকে মাস্ক ব্যবসা হয়ে উঠে লাভজন ও লোভনীয়। প্রথম পর্যায়ে ফামের্সীতে মাস্ক বিক্রি করা হতো। এখন এর পরিধি বেড়েছে। মাস্ক বিক্রি করা ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বেড়েছে। প্রথম দিকে অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করে মাস্ক বিক্রি করা হতো। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে জীবন রক্ষাকারী এসব মাস্ক বিক্রি হচ্ছে রাস্তার ধারে খোলা জায়গায়, খোলা অবস্থায়। করোনা ভাইরাসের প্রভাব ফেলার শুরুর দিকে মাস্কের দাম বেশি ছিল। এক পিস মাস্ক ১০০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় এখন হাতের কাছেই স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায় মাস্ক। মাত্র ৫টাকায় রাজশাহী নগরীর অলিগলি, দোকানপাট সবখানেই এই মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তার ধারে ছোট মুদিখানা বা স্টেশনারী দোকান, ফুটপাতের পান সিগারের দোকানেও মিলছে মাস্ক। ফুটপাতের দোকানের মাস্কে বিক্রি হচ্ছে খোলা অবস্থায়। কোম্পানী থেকে খোলাভাবেই মাস্ক ফুটপাতের দোকানে দেয়া হচ্ছে। দোকানদার পলিথিনের মধ্যে রেখে তা বিক্রি করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতের খোলা অবস্থায় থাকার কারণে মাস্কের উপর পড়ছে ধুলা ময়লা। দিনের পর দিন দোকানের সামনে টাঙ্গিয়ে রাখা মাস্কগুলো ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে গেলেও সেগুলোই বিক্রি করা হচ্ছে। দিনের পর দিন এমনকি সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে খোলা জায়গায়। লোকজন ময়লাযুক্ত ওই মাস্ক কিনছেন ও ব্যবহার করছেন। ধুলা ময়লা যুক্ত এসব মাস্ক কতটা স্বাস্থ্য সম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও ফুপাত বা মুদি দোকানে এক ধরনের মাস্ক বিক্রি করা হচ্ছে যা এক বা দুদিন ব্যবহার করার পর তৃতীয়দিন আর ব্যবহার করা যায় না। একেই তো ময়লা যুক্ত কিনতে হচ্ছে আবার দুদিন ব্যবহার করার আগেই ছিড়ে যাচ্ছে মাস্কের ফিতা। অথবা দুদিন ব্যবহার করে ফেলে দিতে হচ্ছে ডাসবিনে।

নগরীর বিন্দুর মোড়ের এক চায়ের দোকানদানে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, কোম্পানীর লোকজন তাকে বিক্রি করার জন্য দিয়ে গেছে। মাস্কের প্যাকেট নাই কেনো জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোম্পানীর লোকজনই খোলা অবস্থায় ৫০টি মাস্ক দিয়ে গেছে। তিনি একটি পলিথিনে রেখে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, সম্পুর্ন বিক্রি হওয়ার পর কোম্পানীর লোক এসে টাকা নিয়ে যাবে। ৫০টি মাস্ক কতদিনে বিক্রি হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক সপ্তাহে সব মাস্ক বিক্রি হয় না।

শুধু নগরীর বিন্দুর মোড় নয়, নগরীর ব্যবস্তম সাহেববাজারের ফুটপাতের প্রতিটি দোকানে খোলা অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে মাস্ক। রাস্তায় যানবাহন চলাচলের সময় ধুলা ময়লা গিয়ে পড়ছে মাস্কে। সেই মাস্ক কিনে মানুষ ব্যবহার করছেন। সাহেব বাজারের ফুলের দোকানদার সবিজ জানান, ফুলের চেয়ে মাস্ক বেশি বিক্রি হয়। ফুলের সাথে তিনি স্বল্প পুঁজিতে এই মাস্ক কিনে বিক্রি করছেন। যদিও মাস্ক নিতে কোথাও যেতে হয় না। কোম্পানীর লোকজনই তাকে মাস্ক দিয়ে যায়। সেগুলো তিনি পলিথিনে ভরে বিক্রি করছেন। রাস্তার ধুলাবালি পড়ে মাস্ক ব্যবহারের অপযোগি হয় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন ১শ’ টি করে মাস্ক কোম্পানী থেকে দিয়ে যাওয়া হয়। বিক্রি করতে তিন থেকে চারদিন লাগে। একেবারে যেগুলো বেশি ময়লা হয় লোকজন নেয় না সেগুলো কোম্পানীর লোককে ফেতর দেয়া হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নগরীর লক্ষীপুর মোড়ে এক ডাব বিক্রেতাও ভ্যানের সামনে ঝুরিয়ে বিক্রি করছেন মাস্ক। নজরুল নামের এই ডাব বিক্রেতা বলেন, ডাব খেতে গিয়ে অনেক সময় মাস্কে পানি পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। সেদিকটা লক্ষ রেখে আমি ডাব বিক্রির সাথে মাস্ক বিক্রি করছি। কারণ কোনো ক্রেতা ডাব খেতে গিয়ে পানি পড়ে মাস্ক নষ্ট হলে তাকে অন্যত্র গিয়ে আবার মাস্ক কিনতে হয়। কিন্তু ডাবের সাথে মাস্ক বিক্রি করায় লোকজনদের আর অন্যত্র গিয়ে মাস্ক কিনতে হয় না। একদিকে যেমন ক্রেতাদের সুবিধা হলো অন্যদিকে আমার বাড়তি আয় হলো। মাস্কে ধুলা ময়লা পড়ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহুত রাস্তার ধারে, সেহুত একটু পড়তেই পারে। তারপরও তাকে এসব মাস্ক বিক্রি করতে কোনো সমস্যা বা ক্রেতাদের প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় না।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয় ভোক্তা অধিকারের মারুফ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের আওতায় পড়ে না। নিম্ন মানের মাস্ক বিক্রি বা দাম বেশি নেয়ার বিষয়ে থাকলে অথবা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ পেলে অবস্থায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এব্যাপারে রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক জানান, মাস্ক বিক্রির বিষয়টি তাদের ভেতরে পড়ে না।

রাসিকের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সমর কুমার পাল জানান, মাস্ক বিক্রির বিষয়টি রীতিমত ভাবিয়ে তুলেছে। দুএকদিনের মধ্যে জেলা প্রশাসনের সাথে সভা আছে। ওই সভায় যত্রতত্রভাবে মাস্ক বিক্রির বিষয়টি তোলা হবে। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালক পরিচালনা করা হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন.......




© All rights reserved © 2020 Rajshahirkotha.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com