সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি :

জরুরী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে……..রাজশাহীর কথা  অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য দেশের সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে।

ভাড়ায় চলছে রাজশাহী সরকারী শারীরিক শিক্ষা কলেজ অধ্যক্ষের ভবন

ভাড়ায় চলছে রাজশাহী সরকারী শারীরিক শিক্ষা কলেজ অধ্যক্ষের ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল রাজশাহী সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বদলী হয়েছেন অধ্যক্ষ রতন কুমার সরকার। তিনি বর্তমান বাগেরহাট সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ রতন কুমার সরকারের পর রাজশাহী সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেন খাদেমুল ইসলাম। সরকারী নিয়মানুযায়ী অধ্যক্ষ রতন কুমার সরকার বাগেরহাটে তার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী বাসভবনে থাকেন। আর নিয়মানুযায়ী রাজশাহী সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলামের থাকার কথা তার জন্য বরাদ্দকৃত বাসভবনে। কিন্তু ঘটনাটি পুরোটাই উল্টো। অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলামের নামে সরকারী বাসভবন বরাদ্দ থাকলেও তিনি এই বাসভবন ভাড়া দিয়েছেন। অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলামের বাসভবনে পূর্বের অধ্যক্ষ রতন কুমার সরকারের পরিবার বসবাস করছেন। আর অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলাম থাকছেন ক্যাম্পাসের বাইরে। বারাদ্দকৃত সরকারী বাসভবনে থাকা বাধ্যতামূলক হলেও অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলাম এই সরকারী বাসভবন ভাড়ায় খাটাচ্ছেন। যা সরকারী বিধিলঙ্ঘন বলে মনে করছেন কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ হলে তার জন্য সরকার থেকে বাসবভন বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারের বরাদ্দৃকত বাসভবনে থাকতে হয় কলেজের অধ্যক্ষের। বরাদ্দকৃত বাসভবন থেকে সরকার ভাড়া হিসাবে মাসে বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কেটে নেয়, যা কলেজের ফান্ডেই থাকে। সরকারী নিদের্শনায় বলা হয়েছে, অধ্যক্ষের নামে বরাদ্দকৃত বাসভবন ভাড়া দেয়া যাবে না। অধ্যক্ষ বাসভবনে না থাকলে সেটি যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থাতেই থাকবে। কোনো অধ্যক্ষ বরাদ্দকৃত বাসভবনটি ভাড়া দিতে পারবেন না। কিন্তু সরকারী এই নির্দেশনা অমান্য করে রাজশাহী সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ বাসভবন ভাড়া দিয়েছেন। তার নামে বরাদ্দকৃত বাসভবন ভাড়া দিয়ে তিনি অন্যত্র থাকছেন। যা স¤পূর্ণ সরকারী নিয়মের পরিপন্থি। এদিকে গত প্রায় তিন বছর আগে রাজশাহী সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে বদলি হয়েছেন অধ্যক্ষ রতন কুমার সরকার। তিনি বদলী হলেও রাজশাহী সরকারী শারীরিক শিক্ষা কলেজের বাসভবনটিতে তার পরিবার বসবাস করছেন। তিনি বাগেরহাট সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ায় সেখানকার বরাদ্দকৃত বাসভবনও পেয়েছেন। কিন্তু তার পরিবার থাকছে রাজশাহী সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবনে।

জানা গেছে, সরকার অধ্যক্ষদের জন্য বরাদ্দকৃত কোয়ার্টার থেকে মাসিক টাকা কর্তন করেন। কিন্তু রাজশাহীর মত নগরীতে বসবাস করতে গেলে বাসভবনের জন্য যে টাকা কাটা হয় তার অনেক কম থাকায় থাকা যায়। মাত্র ১০হাজার টাকা হলে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালভাবে বাইরে বাসা ভাড়া করে বসবাস করা যায়। যার কারণে রাজশাহী সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলাম তার জন্য বরাদ্দকৃত বাসভবন ভাড়া দিয়ে তিনি থাকছেন বাইরে। আর তার যে বাসা ভাড়া সেটি তুলছেন ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে। সরকারী নিয়মকে উপক্ষে করে বাসভবন ভাড়া দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কলেজের শিক্ষক- কর্মচারিরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সিনিয়র শিক্ষক জানান, আমাদের অধ্যক্ষ ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় প্রায় সময় প্রশাসনিক কাজে অনেক জটিলতা দেখা দেয়।

এদিকে গত মঙ্গলবার একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়ি ভাড়া দিতে পারবেন না। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যাদের নামে সরকারি বাসা বরাদ্দ হবে, তাদের সেই বাসায় থাকতেই হবে। কিন্তু রাজশাহী সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষের বেলায় দেখা গেছে তিনি অনিয়মকেই নিয়ম করে তার জন্য বরাদ্দকৃত বাসা ভাড়া দিয়ে রেখেছেন।
বাগেরহাট সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার সরকার বলেন, আমি বাগেরহাটে বদলী হয়ে এলেও আমার পরিবারের লোকজন রাজশাহী সরকারী শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবনেই রয়েছে। বাসভবন ভাড়া হিসাবে ওখানকার অধ্যক্ষকে মাসে টাকা দিতে হয়। বাসভবন ভাড়া দেয়া সরকারী আইনের মধ্যে পড়ে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারী বাসভবন ভাড়া দেয়া যাবে না। রাজশাহীর শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ কেনো ভাড়া দিয়েছেন তা আমার জানা নেই।

এবিষয়ে রাজশাহী সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, আপাতত আমার বরাদ্দকৃত বাসভবনে আগের অধ্যক্ষের পরিবার রয়েছে। তাদেরকে বাসভবনটি ভাড়া দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যদি সরকার না চায় তাহলে আমি নিজেই থাকবো। বরাদ্দকৃত বাসভবন ভাড়া দেয়ার নিয়ম নেই, তারপরও কেনো ভাড়া দিয়েছেন এমন প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, দেশের জেলা উপজেলায় অনেকেই বাসভবন ভাড়া দিয়ে বাইরে থাকেন। তাদের ধারাবাহিকতায় তিনি ভাড়া দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন।

এ ব্যাপারে ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক মোমিনুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, সরকারী কলেজের অধ্যক্ষদের জন্য বরাদ্দ দেয়া সরকারী বাসভবন ভাড়া দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। যাকে যে বাসভবন বরাদ্দ দেয়া হবে তাকে সেখানেই থাকতে হবে। অধ্যক্ষ খাদেমুল ইসলাম যদি সরকারী বাসভবন ভাড়া দেন তাহলে সেটা নিয়মবর্হিভূত ভাবেই ভাড়া দিয়েছেন। তিনি বলেন বিষয়টি জানা ছিল না। এখন খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন.......




© All rights reserved © 2020 Rajshahirkotha.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com